ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৮, ২০ সফর ১৪৪৩

মরুভূমির ফল ঠাকুরগাঁওয়ে



মরুভূমির  ফল  ঠাকুরগাঁওয়ে

ডেস্ক রিপোর্ট: ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথমবারের মতো ব্যক্তিগত উদ্যোগে একজন  ত্বীন ফলের চাষ শুরু করেছেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ফলটি ঔষধি গুণসম্পন্ন এবং স্বাদে মিষ্টি। ছাড়া ব্রেস্ট ক্যান্সার উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগের প্রতিকারও  ফল থেকে পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

 

ইএসডিও নামে বেসরকারি একটি উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক (প্রশাসন) সেলিমা আক্তার নামে এক নারী উদ্যোক্তা সদর উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকায় চলতি বছর এক একর জমিতে মরুভূমির ত্বীন ফল চাষ করে সফল হয়েছেন।

 

পরীক্ষামূলক চাষে সফল হওয়ার পর এখন কৃষক পর্যায়ে বাণিজ্যিক চাষ ছড়িয়ে দিতে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাগানে কর্মরত শ্রমিক আলমগীর হোসেন। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো ডুমুর আকৃতির ত্বীন গাছে ফল আসতে শুরু হওয়ায় দৃষ্টি কেড়েছে স্থানীয়দের।

 

 আরব দেশের মরুভূমির ফল এখন নিজ এলাকায় চাষাবাদ হচ্ছে। তাই ফলটি দেখার আগ্রহ নিয়ে ছুটে আসছে অনেকেই। এই ফলটির কথা পবিত্র কুরআন শরীফে সুরা ত্বীন- লিখিত আছে। সদ্য এলাকায় চাষ হওয়া প্রথম এই ফল তরুণ উদ্যোক্তাদের অনেকের মধ্যে আগ্রহ বাড়িয়েছে।

এমতাবস্থায় ঔষধি গুণসম্পন্ন এই ফলের বাগান করার ইচ্ছা অনেকের মাঝে পরিলক্ষিত হচ্ছে।  বাগানে কর্মরত শ্রমিকের  কাছ থেকে এই ফল চাষের নিয়ম পদ্ধতিও শিখে নিচ্ছেন এলাকাবাসী।

ইএসডিও প্রকল্প সমন্বয়ক বলেন গত বছরের শেষের দিকে ভারত থেকে মিশরীয় জাতের ত্বীন ফলটির গাছ নিয়ে আসা হয়েছে এবং একই বছর এক একর জমিতে গাছগুলো চারা রোপণ করা হয়েছে।  কয়েকমাসের মধ্যে ফল আসতে শুরু করেছে। প্রতিটি গাছে এখন ৭০-৮০টি করে ফল ধরছে। প্রকল্প  আরও বলেন  গাছটির বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফলও অনেক বেশি ধরবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

 

প্রকল্প সম্বয়ক আরও বলেন, ত্বীন শুষ্ক শীত প্রধান দেশে চাষ হলেও আমরা  প্রমাণ করেছি নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতেও ফল উৎপাদন সম্ভব। ইএসডিও বাণিজ্যিকভাবে  আরও ব্যাপক আকারে সম্প্রসারিত করে গাছের কলম তৈরির মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে দেবার লক্ষ্যে কৃষি ইউনিট একটি পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।

 

 ত্বীন গাছটিতে কোনো রকম রাসায়নিক সার দেয়া হয় না। জৈব কম্পোজড সার মিশিয়ে গোড়ায় দেয়া হয়। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কাও পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলো বড় করা হয়। রোপণ করা গাছগুলোর মাটি বেলে দো-আঁশ মাটির সংমিশ্রণ হলেও এই আবহাওয়ার সঙ্গে এখন খাপ খায়িয়ে নিয়েছে ত্বীন। ত্বীন গাছটির বীজ থেকে চারা উৎপাদনের হার কম হওয়ায় নির্ভরতা করতে হচ্ছে কাটিং বা কলম চারায়।

 

দেশে ছাড়াও বিদেশে ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সম্ভবনাময় এই ফলটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা গেলে দেশে বেকারত্ব হার কমে আসবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে সকলে তা মনে করেন।  বেসরকারিভাবে ঠাকুরগাঁওয়ে এই প্রথমবার ত্বীন চাষ করা হচ্ছে।

 

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপতালের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক জিপি সাহা বলেন, ডুমুর বা ত্বীন জাতীয় ফলটিতে রয়েছে ৭০ প্রকারের ভেজষ গুণ। তবে এটি  মূলত ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এক মহৌষধ

 

ডুমুরের ফল সবজি হিসেবে খেতে আমরা রোগীদের পরামর্শ দিয়ে থাকি। ছাড়াও কোষ্ঠকাঠিন্য, শরীরে মেদ কমানো, উচ্চ রক্তচাপ, ব্রেস্ট ক্যান্সার, শরীরে হিমোগ্লোবিন ঠিক রাখা, মানসিক ক্লান্তি দূর করাসহ অনেক রোগ নিরাময়ে এই ফলটি বিশেষভাবে সহায়তা করে।


   আরও সংবাদ