ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৮, ২০ সফর ১৪৪৩

এক পায়ে দড়ি লাফিয়ে বাংলাদেশের রাসেলের বিশ্বরেকর্ড



এক পায়ে দড়ি লাফিয়ে বাংলাদেশের রাসেলের বিশ্বরেকর্ড

 

ঠাকুরগাঁওয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলে রাসেল ইসলাম। স্কিপিং রোপ বা দড়ি লাফানো খেলায় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়ায় মনে চাপা কষ্ট ছিল ১৮ বছরের এই তরুণের। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়ে তার সেই কষ্ট ঘুচেছে। রাসেল ইসলাম এক পায়ে ৩০ সেকেন্ডে ১৪৫ বার ও ১ মিনিটে ২৫৮ বার দড়ি লাফিয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এতে প্রশংসায় ভাসছেন রাসেল। বিভিন্ন স্থান থেকে অনেকেই তাকে দেখতে ছুটে আসছেন এবং সাধুবাদ জানাচ্ছেন। এক পায়ে ৩০ সেকেন্ড স্কিপিং রোপে ১৪৪ বার লাফানোর বিশ্বরেকর্ড থাকলেও রাসেল করেছেন ১৪৫ বার। আর ১ মিনিটে এক পায়ে ২৫৬ বার লাফানোর বিশ্বরেকর্ড থাকলেও রাসেল সেই রেকর্ড ভেঙে করেছেন ২৫৮ বার।

রাসেল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের সিরাজপাড়া গ্রামের কৃষক বজলুর রহমানের ছেলে। তিনি ঠাকুরগাঁও শিবগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। স্কুল জীবন থেকেই স্কিপিং রোপ খেলা শুরু করেন রাসেল। একসময় জেলা থেকে বিভাগ পর্যায়ে স্কিপিং রোপে প্রথম হন তিনি। বিভাগ থেকে জাতীয় পর্যায়ে স্কিপিং রোপে অংশগ্রহণ করলেও তাকে বাদ দেওয়া হয়। তখন থেকেই তিনি প্রতিজ্ঞা করেন এক দিন এই খেলা নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ার। সেই থেকে স্কিপিং রোপের চর্চা করেছেন। অবশেষে নিজেকে এই খেলায় পরিপূর্ণ মনে হলে ২০২০ সালের ৭ জুন ৩০ সেকেন্ডের স্কিপিং রোপ রেকর্ড প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করেন রাসেল এবং একই বছরের ২৫ জুলাই ১ মিনিটের স্কিপিং রোপ রেকর্ড প্রতিযোগিতার জন্য আবেদন করা হয়। আবেদনের তিন মাস পর গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ থেকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের নির্দেশনাসহ মেইলে চিঠি পান রাসেল। সেখানে তারা তাদের নিয়মমতো কিছু ভিডিও চায় তার কাছে। সেই সঙ্গে কীভাবে সেগুলো করতে হবে তারও বিস্তারিত দেওয়া হয়। এরপর কিছুদিন আরও মনোযোগ দিয়ে চর্চা করে সেই ভিডিওগুলো করে তাদের পঠিয়ে দেন রাসেল। এভাবেই অতীতের রেকর্ড ভেঙে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন রাসেল। রাসেল ইসলাম জানান, ‘স্কিপিং রোপ আমার ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল। ইন্টারনেটে স্কিপিং রোপের ওপর ভিডিও দেখতাম। স্কিপিং রোপে কতবারে বিশ্বরেকর্ড হয়েছে তা নজরে রাখতাম। ওই বিশ্বরেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড করার স্বপ্ন দেখতাম। স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি প্রতিনিয়ত চর্চা করে যাই। পড়াশোনার পাশাপাশি যখন যেখানে সময় পেতাম সেখানেই চর্চা করে যেতাম।’

রাসেলের বাবা বজলুর রহমান বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলে একটি দড়ি নিয়ে লাফাত। তাকে বলেছিলাম এসব করে কী হবে। সে আমাকে বলত, আব্বা আমি এক দিন এ খেলা দিয়েই তোমাদের মুখ উজ্জ্বল করব। আজ সত্যিই সে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছে। তিনি বলেন, বাবা হয়ে আমি আমার সন্তানকে তেমন কোনো কিছু দিতে পারিনি। তবে সে আমাদের দিয়েছে। আজ সবার মুখে আমার ছেলের নাম। আমি শুধু ছেলেকে সাহস দিয়েছিলাম। এই সাহস নিয়েই এগিয়ে গেছে আমার ছেলে।

 

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘রাসেলকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। পরবর্তীতে রাসেল যে কোনো স্থানে এ খেলায় অংশগ্রহণ করতে চাইলে আমরা তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’


   আরও সংবাদ