ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৮, ২০ সফর ১৪৪৩

যুক্তরাষ্ট্র  ছাড়া  বিশ্ব  স্বাস্থ্য  সংস্থার  কি  হবে?



 যুক্তরাষ্ট্র  ছাড়া  বিশ্ব  স্বাস্থ্য  সংস্থার  কি  হবে?

                                                     
                                                            
                             
অসীম  বেনেডিক্ট  পামার: তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনে  জারি করা একতরফা আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছিলেন, "সংস্কার করুন অন্যথায়" যার অর্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের অংশগ্রহণ ছাড়াই ডাব্লুএইচওর আর্থিক তহবিলের ব্যবস্থা করুন। 
মার্কিন জনগণের ভোটাধিকার ছাড়াই আমেরিক কি সদস্যপদ ছাড়ার ক্ষমতা রাখে? অন্যদিকে, সংস্থার বাজেটের পঞ্চমাংশের ক্ষতি, একটি বড় ধাক্কা, এবং এটি একটি বিশাল আর্থিক ঘাটতির প্রভাব। অনেক দেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আমেরিকার এই বৈরী আচরণের নিন্দা করেছে। চীন, আয়ারল্যান্ড, এবং ফিনল্যান্ড তাঁদের নিজ নিজ সারকারের তরফ থেকে তাঁদের অনুদানকে দিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবুও, অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্রের  শূন্যস্থান পূরণ করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার, এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে একটি অন্তর্নিহিত বিশ্ব স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে নিয়ে যাবে।
এই করোনা মহামারী চলাকালীন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি অপরিহার্য চালক, তবে মার্কিন অনুপস্থিতি  সম্ভবত বিশ্বকে আরও অদক্ষ লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে যাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া, ডাব্লুএইচও  মার্কিন কর্মীদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা হারাবে, তবে অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টেবিলে তাদের আসন হারাবে।
এই মৌলিক কাজগুলি সম্পাদনে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যকারিতা, তার বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষতা এবং এর তুলনামূলক সুবিধাটি  বাস্তবায়নের ক্ষমতার উপর তথা  বিশ্বের সমস্ত দেশের অর্থায়ন, অংশগ্রহণ এবং ব্যস্ততার উপর নির্ভর করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভিন্ন দেশের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত হয় এবং এর একটি বড় অংশ আসে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তবে চিরন্তন সত্যটি হল কোনো কিছুই কারোর জন্য থিম থাকে না, জীবন চলমান,  কেউ যদি নীতিগত বিরোধের কারণে সহায়তা দিতে অক্ষম হয়  তবে  এগিয়ে যাওয়ার ছাড়া আর কোন উপায় নেই।
জীবন পরিবর্তনের বিষয়ে অনেক লোক গুরুতর চিন্তাভাবনার সাথে লড়াই করে, স্ব-আবিষ্কারের এক অত্যাবশ্যক গুরুত্বপূর্ণ সিঁড়ি হওয়া কখনই সহজ নয়, তবে জীবন চলতে থাকে, আমাদের সবাইকে সম্মানের সাথে তার মুখোমুখি হতে হবে। বাস্তবতা ব্যতীত জীবনের কোনো কিছুরই তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের প্রয়োজন অত্যাবশক নয়। আমরা সকলেই বিশ্বাস করি যে  চলার পথে জীবন পরিবর্তন হওয়া দরকার, আমাদের জীবনে  যখন অপ্রত্যাশিত বিরতি আসে তখন আমাদের চলমান প্রবাহের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
 বড় শক্তিটিকে একটি কথাই বলার থাকে সেটা হল, টেবিলে নিজের আসনটি ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থকে পরিত্যগ করে বিশ্ব মানবতার স্বার্থে মতবিরোধ ছেড়ে একত্রে কাজ করা জরুরী। 


 


   আরও সংবাদ