ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৮, ২০ সফর ১৪৪৩

আধুনিক শিল্পের স্থপতি, পথিকৃৎ বাংলার জয়নুল আবেদীন।



আধুনিক  শিল্পের  স্থপতি, পথিকৃৎ  বাংলার  জয়নুল  আবেদীন।

চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদিন বর্তমান কিশোরগঞ্জ তথা  ব্রিটিশ ভারতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।  ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ উপনৌবেশিক আমলে বাংলায় বড় দুর্ভিক্ষের চিত্রকর্মের মাধ্যমে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৪৮ সালে পূর্ব বাংলায়  শিল্পকলা ও কারুকলা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিলেন এবং অধ্যক্ষের দায়িত্ব রত ছিলেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস তাকে একজন কিংবদন্তি বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। শিল্পী ও দূরদর্শী গুণাবলীর জন্য তাঁকে "শিল্পাচার্য" "চারুকলার মহান শিক্ষক" উপাধিতে ভূষিত করেছিল তৎকালীন সরকার। ব্যতিক্রমী প্রতিভা এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান শিল্পী বাংলাদেশের   আধুনিক  শিল্পকলার  জনক  জয়নুল আবেদীন।  

তৎকালীন সময়ে জয়নুল আবেদিন প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত কার্যক্রম অনুপস্থিতি সত্ত্বেও তার বলিষ্ঠ নেতৃতে বাংলায় শিল্পকর্ম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নদী এবং উন্মুক্ত প্রকৃতি শিল্পীকে তার শৈল্পিক জীবনে পদার্পনে অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি ১৯৩৩ সালে কলকাতা গভর্নমেন্ট আর্ট স্কুলে ভর্তি হন এবং পাঁচ বছর ধরে ব্রিটিশ-ইউরোপীয় একাডেমিক স্টাইল শিখেছিলেন যা স্কুলটি কঠোরভাবে অনুসরণ করেছিল। ১৯৩৮ সালে, তিনি আর্ট স্কুলের অনুষদে যোগ দিয়েছিলেন এবং  প্রশস্ত, রোমান্টিক শৈলীতে ছবি আঁকতে শুরু করেন। ব্রহ্মপুত্র নদের প্রতি  শ্রদ্ধা হিসেবে তার জলরঙের চিত্ৰকর্ম ১৯৩৮ সালে সর্বভারতীয় প্রদর্শনীতে তাকে গভর্নরের স্বর্ণপদক এনে দিয়েছিল।

প্রাচ্যবাদী শৈলীর প্রতি জয়নুলের অসন্তুষ্টি ভারী আচরণ এবং ইউরোপীয় একাডেমিক স্টাইলের সীমাবদ্ধতা তাকে বাস্তবতার দিকে নিয়ে গিয়েছিল এবং তা তিনি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ব্যাখ্যায় নিজেকে বহুমুখী হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। ১৯৪৩ সালে মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষের উপর তিনি একটি স্কেচ আঁকেন যা সারা বাংলায় আলোড়ন ছড়িয়ে দিয়েছিলো। স্কেচটিতে মৃত্যুর বণিকদের নিষ্ঠুরতা এবং অসভ্যতার চিত্র এবং ভুক্তভোগীদের চরম অসহায়ত্ব তুলে ধরা হয়েছিল।

জয়নুলের আধুনিকতাবাদের ধারণা  বিমূর্ত ও প্রতিনিধিত্বশীল শৈলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না বরং সামাজিক অগ্রগতি এবং স্বতন্ত্র গতিশীলতায় অবাধ ছিল। মানবসৃষ্ট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে সংগ্রামকারী পুরুষ ও মহিলাদের শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের আধুনিকতার রূপকার এই জয়নুল আবেদীন। জয়নুলের রচনায় শ্রম এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রামী সম্ভাবনার উপলব্ধি প্রতীয়মান।

১৯৬৯ সালের  ৬৫ ফুট স্ক্রল পেইন্টিং গণআন্দোলনের চিত্ৰকর্ম বা ১৯৭০ ফুটের স্ক্রল পেইন্টিং মনপুরা 1970 এর ধ্বংসাত্মক ঘূর্ণিঝড়ে মারা যাওয়া কয়েক হাজার মানুষের স্মৃতিচারণের চিত্ৰকর্ম সারা বিশ্বে অবিস্মরণীয় ছিল। কর্মক্ষেত্রে গতিশীল শৈলী, প্রকৃতি এবং মানুষের দৃশ্য সর্বদাই তার চিত্র্যকর্মে প্রতীয়মান ছিল। তিনি পশ্চিমা কৌশল এবং শৈলীর অকল্পনীয় অনুলিপি নিরর্থকতা অনুভব করেছিলেন যা আধুনিক শিল্পকে স্থানীয় শিল্পীদের একটি অংশে অনুপ্রাণিত করেছিল। এই স্বনামধন্য চিত্ৰশিল্পী ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৭৬ সালের ২৮সে মে চিরনিদ্রায় শায়িত হন।


   আরও সংবাদ